,


বাংলার সুলতানি আমল

১২০৪ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলায় খিলজি বংশ রাজত্ব করেছিল। ১২২৭ থেকে ১২৮১ পর্যন্ত দিল্লীতে মামলুক সুলতানির অধীনে ১৫ জন প্রদেশ শাসক প্রশাসনের ভার নেয়। এরপর ১৩২৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বলবন শাসন চলে। কিছু বছর পর তারা স্বাধীন ভাবে বাংলাকে শাসন করতে থাকে। তুঘলক বংশের শাসনকালে ১৩২৪ থেকে ১৩৩৯ পর্যন্ত তিনজন প্রাদেশিক শাসনকর্তা সোনারগাঁও, সাতগাঁও এবং লখনভাটিতে শাষক নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরে এদের মধ্যে ইলিয়াস শাহ এই সমস্ত অঞ্চলে তার আধিপত্য বিস্তার করেন এবং অঞ্চলগুলি ইলিয়াস শাহী বংশের স্বাধীন শাসনের অধিনস্ত হয়। ১৪৮৭ পর্যন্ত ইলিয়াস শাহী বংশ বাংলায় রাজত্ব করে যদিও ১৪১৪ থেকে ১৪৩৫ পর্যন্ত হিন্দু রাজা গণেশ ও তার পুত্র যদু (জালালুদ্দিন)বারবার ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু বা মুসলমান ধর্ম গ্রহন করে বাংলার শাসনভার নিজেদের হাতে রাখে। ১৪৯৪ তে হুসেন শাহ বাংলার মসনদে বসেন। তার আগে অবশ্য কিছুদিন হাবসী (আবিসিনীয়)দের অধীনে (১৪৬৭- ১৪৯৪) বাংলাকে থাকতে হয়।

এই সময় বাংলার রাজনৈতিক পটভূমি অশান্ত।হুসেন শাহ, যাকে বাংলার সুলতানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়, জন্মেছিলেন আরবদেশে। সাংস্কৄতিক পুনরুজীবনের জন্য তার শাসনকাল বিখ্যাত। ১৫৩৮ পর্যন্ত হুসেন শাহের বংশধরেরা বাংলা শাসন করেন। এরপর ১৫৫৪ থেকে শের শাহ্‌ সুরী আমলে বাংলার শাসনভার সামলান প্রাদেশিক শাসনকর্তারা। মহম্মদ শাহ (১৫৫৪-১৫৬৪) এবং কারানি আমল অতিবাহিত হওয়ার পর মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে সুবেদাররা বাংলা শাসন করতে থাকে।

১৫৭৪ এ মোগল সম্রাট আকবর বাংলা অধিকার করেন ও সুবেদার নিয়োগ করেন। আকবর (১৫৭৪-১৬০৬), জাহাঙ্গীর (১৬০৬-১৬২৮),শাহ্‌জাহান (১৬২৮-১৬৬০) ও ঔরঙ্গজেব (১৬৬০-১৭১২) এর আমলে মোট ২৯ জন সুবাদার বাংলা শাসন করেন।ঔরঙ্গজেব এর পর মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলায় স্বাধীন নবাবির পত্তন করেন ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে এবং পরবর্তী দশ বছর তিনি ঐ দায়িত্ব সামলেছেন।আলিবদ্দী খাঁ (১৭৪০-১৭৫৬) এর পর সিরাজ উদ্-দৌলা বাংলার মসনদে বসেন (১৭৫৭) এবং ঐ বছরেই পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে তিনি পরাজিত হন। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৫ পর্যন্ত মীরজাফর ও মিরকাশিম এর নেতৄত্বে নবাবি শাসন চললেও এই সময়ের মধ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হচ্ছিল।

বক্সার যুদ্ধ (১৭৬৪) বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। এ যুদ্ধে বাংলার নবাব মিরকাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজা উদ্-দৌলা এবং মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ্‌ আলাম একযোগে কোম্পানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং পরাজয় বরণ করেন। এই যুদ্ধের ফলস্বরুপ বাংলা থেকে দিল্লী পর্যন্ত কোম্পানির  সবিশেষ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখুন