,


বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক হেরোডোটাস

বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক হেরোডোটাস

হেরোডোটাস ( Herodotus) একজন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক, যিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন হালিকারনাসাস, কারিয়-তে (বর্তমান দিনের বোদরাম, তুরষ্ক)। তিনি ছিলেন খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দি্র মানুষ (আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪৮৪ – আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪২৫)। রোমান আইনবিদ, ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক সিসেরো তাঁকে ইতিহাসের জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কেননা তিনিই প্রথম পদ্ধতিগতভাবে ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোর সূক্ষ্মতা নিরূপণে উদ্যমী উদ্যোগ নিয়ছিলেন, এবং সেগুলোকে সঠিক ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যায় বিন্যস্ত করেছিলেন। অন্যদিকে, প্লুটার্ক তাঁকে ‘মিথ্যার জনক’ বলেছেন। দ্য হিস্টোরিস(The Histories) বইটি তার অমর সৃষ্টিকর্ম।

জন্ম: খ্রিস্টপূর্ব_৪৮৪                  মৃত্যু: খ্রিস্টপূর্ব_৪২৫

সারিয়া,এশিয়া মাইনর                ক্যালিব্রিয়া অথবা মেসিডোন

পিতা :লেক্সেস (Lyxes)               মাতা :ডারইউটাম (Dryotus)

ইতিহাস যাদের প্রিয় বিষয় তাদের কাছে হেরোডোটাস খুব পরিচিত এক নাম। গ্রীক এই ঐতিহাসিকের নানান ব্যাখ্যা বয়ান আমরা বই মারফত জানতে পারি। তার জন্ম হয়েছিল গ্রীক সাম্রাজ্যের তৎকালীন উপনিবেশ বর্তমান তুরস্ক অঞ্চলে। কৃষ্ণ সাগরের যে অঞ্চলে হেরোডেটাস জন্মেছিলেন, সেই অঞ্চলটির নাম অনেক পরে হয় আনোতোলিয়া। নেভসেইর, কায়সেরি,আকসারাই এবং নিগদে নামক প্রদেশগুলো নিয়ে গঠিত এই আনাতোলিয়া। সাবেক আনাতোলিয়ার সঙ্গে অবশ্য বর্তমানের আনাতোলিয়াকে মিলিয়ে ফেলা যাবে না। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অনেক কারণে সাবেক আনাতোলিয়া এখন অনেক ক্ষুদ্র হয়ে গেছে। এই আনাতোলিয়ারই একটি ছোটো নগরী কাপাদোকিয়া।

ধারণা করা হয় আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে এই নগরীর পত্তন হয়েছিল। এর পত্তনের পর থেকে অনেক রাজাই কাপাদোকিয়াকে দখল করেছিল। পার্সিয়ান রাজা প্রথম দারিয়ুস এবং জেরক্সেস পর্যন্ত কাপাকোদিয়া দখল করেছিলেন। পরবর্তীতে আবারও গ্রীক এবং সিরীয়দের দ্বারা অধিকৃত হয়েছিল অঞ্চলটি। প্রতি দখলেই অবধারিতভাবে কাপাদোকিয়া তার ভূমি হারিয়েছে। তাই ঐতিহাসিকদের পক্ষে অতটা নিরেটভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না যে, আসলেই এই নগরীটির আয়তন কত ছিল। পার্সিয়ান শাসনামলেই প্রথমবারের মতো কাপাদোকিয়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। এর একভাগে ছিল প্রশাসনিক অঞ্চল, আরেকভাগে ছিল জনসাধারণের অঞ্চল। তবে আলেকজান্ডার নগরীটি দখল করার পর এই ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে যায় এবং কাপাদোকিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী অশান্তি শুরু হয়।

ব্রোঞ্জ যুগে কাপাদোকিয়া ‘হাট্টি’ নামে পরিচিত ছিল। হিট্টিদের পতনের পর এই অঞ্চলের দখল নিয়েছিল মুসখিরা। আবার এই মুসখিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল লিডান রাজা কোরিসুস। এরপর ইতিহাসের বাকে অনেকবারই বিজয়ী শক্তির পদানত হতে হয় কাপাদোকিয়াকে। তবে মজার বিষয় হলো, কোনো শক্তিই কাপাদোকিয়াকে ধ্বংস করে দেয়নি। বাণিজ্যিক অথবা ভৌগোলিক যে কারণেই হোক, প্রত্যেকেই এই নগরীটিকে নিজ নিজ স্থাপত্যকলা দিয়ে সাজানোর চেষ্টা করেছেন। যার ছাপ রয়েছে গোটা নগর জুরে। আগে কাপাদোকিয়ার আওতায় আরও চারটি ছোটো শহর ছিল, এবং ওই শহরগুলোও ছিল বিচিত্র সব স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখুন