,


সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে ঐতিহাসিক নবাববাড়ি ৷

বর্ধমান শহরে মুঘল সম্রাট শের আফগান তৈরি করেছিলেন এই নবাববাড়ি ৷ সম্রাট হওয়ার আগে দীর্ঘদিন এখানে ছিলেন তিনি ৷ পরে নবাববাড়িতে থাকেন বর্ধমানের শাসকরা ৷ ছিলেন মুর্শিদ কুলি খাঁ ও আলিবর্দি খান।

বর্ধমান জেলা বহু স্থাপত্য মন্ডিত হয়ে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। খনি ও শিল্পের পাশাপাশি ওই সকল ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও বর্ধমানে বর্তমান। এসবের মধ্যে রয়েছে খাজা আনোয়ারের নবাব বাড়ি ও হাওয়ামহল, শের আফগান ও কুতুবুদ্দিনের সমাধি, জুম্মা মসজিদ ও খক্কর শাহের সমাধি, কালনার ফিরোজ শাহের মসজিদ, মঙ্গলকোটের শাহী মসজিদ ইত্যাদি।ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো আজো পর্যটকদের মনে দোলা দেয়।

বর্ধমানের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্বলিত কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হলো। খাজা আনোয়ার নবাববাড়ি ও হাওয়ামহল- বর্ধমান শহরের দক্ষিণে মুঘল আমলের দুই যোদ্ধা খাজা আনোয়ার ও খাজা আবুল কাশেমের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। এই বীরের নামকরণেই এলাকাটি নবাববাড়ি নামে পরিচিত। নবাববাড়ির বিশাল সুরম্য প্রাসাদ নানাভাবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। সম্রাট ফারুখশিয়রের (১৭১৫) আমলে স্মৃতিসৌধ ও নবাববাড়ি নির্মিত হয়। সেখানে রয়েছে মসজিদ, রয়েছে জলাশয়। ওই জলাশয়ের মাঝে হাওয়ামহল রয়েছে। প্রতিবছর এখানে মাসব্যাপী মেলা বসে বলে স্থানীয়রা জানান। শের আফগান ও কুতুবুদ্দিনের সমাধি- বর্ধমান শহরের পীরবাহরামঐতিহাসিক এলাকা। সুফি বাহারাম সাক্কার সম্রাট আকবরের বিশেষ আস্থা ভাজন ছিলেন। তারই নামানুসারে এলাকাটির নামকরণ। এখানে শের আফগান তার পত্নী মেহেরুন্নিসাকে নিয়ে বসবাস করতেন। এই মেহেরুন্নিসা-ই ইতিহাসে নূরজাহান নামে খ্যাত। তাকে কেন্দ্র করেই শের আফগানের সঙ্গে যুবরাজ সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীরের দ্বন্দ্ব হয়।

শের আফগানকে বন্দি করতে জাহাঙ্গীর কুতুবুদ্দিনকে পাঠিয়েছিলেন। ১৬০৭ সালের ৩০ মে তুমুল লড়াইয়ে শের আফগান ও কুতুবুদ্দিন দুইজনই মারা যান। পরে তাদেরকে সেখানেই সমাধিস্থ করা হয়। ওই দুইজনের সমাধিক্ষেত্রের অদূরে পীর বাহারামের সমাধি রয়েছে। জুম্মা মসজিদ ও খক্কর শাহের সমাধি- বর্ধমান রাজবাড়ির পিছনে রয়েছে ঐতিহাসিক জুম্মা মসজিদ ও পীর খক্কর শাহের সমাধি। এখানে একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে মাজারে পৌছানো যায়। জুম্মা মসজিদটি নির্মাণ করেন স¤্রাট আওরঙ্গজেবের দৌহিত্র আজিম-উস সান। কালনায় ফিরোজ শাহের মসজিদ- ফিরোজ শাহের আমলে ১৫৩৩ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। দাঁতনকাটি তলায় মজলিশ সাহেবের মসজিদটি বর্তমানে ভগ্নাবস্থায় পতিত হয়েছে। সূক্ষ্ম কারুকাজে সমৃদ্ধ এই মসজিদের স্থাপত্য আজো দৃষ্টিনন্দন। এখানে হাবাসি রাজাদের তৈরিকৃত দুটি এবং নুসরৎ শাহের আমলের একটি মসজিদ রয়েছে।

শাহী মসজিদ- সৈয়দ শাহ আলম খাঁন ফারুখশিয়রের হাত থেকে রক্ষা পেতে মঙ্গলকোটে পালিয়ে যান। ১৭১৬-১৭ সালে সেখানে একটি গোপন প্রার্থনাকক্ষ সহ মসজিদ নির্মাণ করেন। মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য শিল্পকীর্তি হিসেবে পরিচিত এই শাহী মসজিদটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শাহ আলম খাঁনের মৃত্যুর পর তাকে এই মসজিদের উত্তর-পূর্ব কোণে সমাধিস্থ করা হয়। ১৯৮৬-৮৭ সালে কানাডার এক প্রবাসী বাঙালী মসজিদটি সংষ্কার করেন। সব মিলিয়ে খনি-শিল্পের পাশাপাশি পর্যটন ও ঐতিহাসিক দিক দিয়ে বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ও স্থানগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখুন