,


আধুনিক স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘শহীদি মসজিদ’

আধুনিক স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘শহীদি মসজিদ’

মসজিদটির নাম “শহীদি মসজিদ”। এ নামকরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল। এ মসজিদের নামকরণ ও ইতিহাস বেশ পুরনো না হলেও রয়েছে এক গৌরবগাঁথা ইতিহাস। দক্ষিণ পূর্ব কোনে রয়েছে বিশাল পাচঁতলা মিনার। মসজিদটি আধুনিকরুপে নির্মাণের ক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে মাওলানা আতহার আলী (রাঃ) অন্যতম।

এ মসজিদ প্রতিষ্ঠার পেছেনে রয়েছে একটি রক্তাত ঘটনা। ১৯৪০ সাল, হযরত মাওলানা আতহার আলী সাহেবে সবে মাত্র মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। প্রথা অনুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায় দূর্গাপূজা শেষে মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বাজনা বাজিয়ে বিগ্রহ মিছিল নিয়ে যেতে চায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি এ পথে বিগ্রহ মিছিল নেওয়া হলেও মসজিদের সামনে এসে বাদ্য বাজনা বাজানো চলবে না।

কিন্তু উভয় সম্প্রদায় নিজেদের অবস্থানে অটল থাকায় কেউ কোন ছাড় দিতে রাজী নয়। ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় বৃটিশ সরকার এলাকায় গুর্খা সৈন্য মোতায়েন করে। রাত আটটায় চরম মূহূর্ত ঘনিয়ে আসে। বৃটিশ সৈন্যদের গুলিতে চারজন মুসুল্লি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আছির উদ্দিন, মানিক মিয়া, কালার বাপ ও নেহাল মিয়া এই চারজনের বিয়োগান্তক ঘটনার খবর সারাদেশে মূহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। দেশের নানা প্রন্ত থেকে ছুটে আসেন মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিশিষ্ট আলেমগণ নিহতদের ইসলামের নামে শহীদ বলে আখ্যায়িত করেন।

সেই থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার প্রাণকেন্দ্র পুরান থানায় অবস্থিত এ মসজিদটি শহীদি মসজিদ নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এ মসজিদটি বাংলাদেশের সর্বত্র ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ নামে পরিচিত। দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসুল্লিরা প্রতিনিয়ত এখানে নামাজ পড়তে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখুন