,


basic football rules

ফুটবল খেলার আগে জেনে নিন এর ইতিহাস এবং নিয়ম কানুন

মানব মনের প্রশান্তি ও আনন্দদানের জন্য বর্তমান বিশ্বে যত খেলাধূলা প্রচলিত আছে তাদের মধ্যে ফুটবল খেলা অন্যতম। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হলো ফুটবল। ফুটবল খেলার জন্ম চীনে হলেও জনপ্রিয়তার কারণে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি চার বছর পর পর আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশেই ফুটবল জাতীয় খেলার মর্যাদা লাভ করেছে। আমাদের বাংলাদেশের সর্বত্রই এই খেলার প্রচলন ও জনপ্রিয়তা দেখা যায়। ফুটবল একটি সুপ্রাচীন খেলা। সর্বপ্রথম চীন দেশে ফুটবল খেলার জন্ম হয়। ফুটবল খেলা ‘সকার’ নামেও পরিচিত। তবে আধুনিক ফুটবল খেলার প্রচলন ঘটে ইংল্যান্ডে। অতপর খেলাটি খুব দ্রুতই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

ফুটবল আজ শুধু ইউরোপ আমেরিকা নয়, এটি সারা পৃথিবীব্যাপী সম্প্রসারিত হয়েছে। আমাদের স্কুল-কলেজে, মাঠে-ময়দানে, অলিতে গলিতে আজ ফুটবল খেলা হচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরে সারাদেশ জুড়ে সবাই ফুটবল নিয়ে মেতে আছে। বর্তমান বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যেখানে ফুটবল খেলা হয় না। ছোট বড় সবাই ফুটবল খেলা যেমন বুঝতে পারে তেমনি খেলা দেখে বা খেলে গ্রহণ করে অপার আনন্দ। ফুটবলের প্রভাব আজ বিশ্বব্যাপী লক্ষণীয়।

ফুটবল খেলার জন্য ১০০-১২০ গজ দীর্ঘ এবং ৫০-৫৬ গজ প্রস্থ একটি সমতল মাঠের প্রয়োজন। মাঠের দুই প্রান্তে দু’টি করে গোলপোস্ট থাকে। প্রতিটি গোলপোস্ট এর উচ্চতা ৮ ফুট এবং একটি বার বা খুঁটির অপরটি থেকে ৮ গজ দূরে অবস্থিত। একটি আদর্শ ফুটবলের ওজন সাধারণত ১৪-১৬ আউন্স হয়ে থাকে। ফুটবল খেলার জন্য মোট ২২ জন খেলোয়াড় প্রয়োজন হয়, যারা প্রতি দলে ১১ জন করে বিভক্ত হয়ে খেলে থাকে। খেলা পরিচালনার জন্য একজন প্রধান রেফারি ও তাকে সাহায্যের জন্য দু’ জন লাইন্সম্যান থাকে।

খেলার জন্য মাঠের মধ্যস্থলে দুই দল মুখোমুখি অবস্থান করে। রেফারি বাঁশিতে ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথে খেলা শুরু হয় এবং প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের অবস্থানে চলে যায়। সাধারণত ১১ জন খেলোয়াড়ের পাঁচ জন সামনের ভাগে দাঁড়ায় যাদেরকে বলে ফরোয়ার্ড, তাদের পিছনে ৩ জন থাকে মিডফিল্ডার বা হাফ ব্যাক, তাদের পিছনে দু’ জন থাকে ডিফেন্স বা ফুল ব্যাক আর গোলবারের সামনে থাকে একজন গোলরক্ষক, যিনি সর্বাঙ্গ দিয়ে বলকে গোল হওয়া থেকে রক্ষা করেন। মাঝের বিরতি ছাড়া ৪৫ মিনিট করে মোট ৯০ মিনিট হলো একটি ফুটবল ম্যাচের ব্যপ্তি।

অন্যান্য খেলার ন্যায় ফুটবল খেলার নির্দিষ্ট কতকগুলো আইন-কানুন আছে। এসব নিয়মনীতি সবই ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কর্তৃক প্রণীত। যেমন প্রথমে বলটি মাঠের মধ্যস্থলে রাখতে হবে। রেফারি বাঁশি বাজানোর সাথে সাথে খেলা শুরু করতে হবে। একমাত্র গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কেউ বল হাত দিয়ে ধরতে বা মারতে পারবে না। এ নিয়ম না মানলে হ্যান্ডবল হয় এবং বিপক্ষ দলের দিকে বল ফ্রি কিক মারা হয়। অবৈধভাবে কাউকে লাথি বা ধাক্কা মারা যাবে না, মারলে রেফারি শাস্তি স্বরূপ উক্ত খেলোয়াড়কে লাল বা হলুদ কার্ড দেখিয়ে শাস্তি দেন  লাল কার্ড পেলে ঐ খেলোয়াড় আর খেলতে পারেন না । ১৯৮৪ সাল থেকে এ কার্ড দেখানোর নিয়ম প্রচলিত হয়। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের সহজেই চিনতে ১৯৩৫ সাল থেকে জার্সি নাম্বার চালু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট দেখুন