Friday, June 8th, 2018


তবু আফগানিস্তানের বাংলাওয়াশই!

নাটকটা জমে উঠেছিলো ১৯তম ওভারে। কমির জানাতকে পরপর ৫টি চার মেরে বাংলাদেশকে জয়ের দারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু পরের ওভারে রশিদ খান এসে সেই সম্ভাবনায় গুরিয়ে দিলেন। শেষ বলে আরো বেশি নাটকীয়তা তৈরি হলো। রান দরকার ৪। ব্যাটসম্যান আরিফুল হক সজোরে হাঁকালেন রশিদ খানকে। বল একেবারে সীমানায়। সীমানার বাইরেই চলে গিয়েছিল; কিন্তু লাফিয়ে উঠে সেই বলকে বাউন্ডারির বাইরে থেকে ফিরিয়ে দিলেন শফিকুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত দৌড়ে ২ রান নিলেন আরিফুল এবং রিয়াদ। কিন্তু ১ রানে হেরে গেলো বাংলাদেশ। সে সঙ্গে আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাতেই পড়তে হলো টাইগারদের।

দলীয় ৫৩ রানের মাথায় চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যখন আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তখন বড় বিপদে বাংলাদেশ। তখন মুশফিকুর রহীমের সাথে এসে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ। দুইজন মিলে ৬৪ বলে ৮৪ রান করে জয়ে স্বপ্ন দেখান বাংলাদেশকে। শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। ১৯তম ওভার করতে আসেন করিম জানাত। তার ওভারে পরপর ৫টি চার মারেন মুশফিক। শেষ ওভারে এক রান নিয়ে আবার স্ট্রাইক নেন। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে রশিদ খানকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে নাজিবুল্লাহ জাদরানের তালুবন্দী হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল হক মিলে চেষ্টা করলেও হার এড়াতে পারেননি। শেষ বলে চার রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। রশিদকে লঙ অনে তুলেও মেরেছিলেন আরিফ। কিন্তু শফিউল্লাহর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বাউন্ডারির সীমানা পার হতে পারেনি বল। তিন রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। ৩৮ বলে তিনি করেছেন ৪৫ রান।

এর আগে দলীয় ১৬ রানের মাথায় মুজিব উর রহমানের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তামিম। তিন নম্বরে নেমে ভালোই খেলছিলেন সৌম্য সরকার। একটি ৬ ও একটি চারে মিলিয়ে করেছিলেন ১৫ রান, ১৩ বলে। কিন্তু তারপরই রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে গেলেন তিনি। এদিকে ওপেনার লিটন দাসকেও মনে হচ্ছিল বেশ সাবলীল। কিন্তু একই ওভারে তিনিও ফিরে গেলেন রান আউট হয়ে।

এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেন আফগান অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাই। দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও উসমান গনি মিলে ৫৫ রান এনে দেন। এদিন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা আফগান ওপেনার শাহজাদকে এদিন বেশি বাড়তে দেননি নাজমুল ইসলাম অপু। দলীয় অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে এলবিডাব্লুলর ফাঁদে ফেলে শাহজাদকে সাজঘরের পথ দেখান অপু। ২১ বলে ২৬ রান করেছেন শাহজাদ। এরপরই আঘাত হানেন রাহী। নিজের করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে অন্য ওপেনার ওসমান গনিকে (১৯) মুশফিকুর রহীমের তালুবন্দী করেন।

এরপর আফগান অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাইকে ফেরান আরিফুল হক। আফগানদের দলীয় রান তখন ৯৫। ৬টি ছক্কার সমন্বয়ে ১৬ বলে স্ট্যানিকজাই করে ফেলেছেন ২৭ রান। তখনই আরিফুলের বলে বদলি নামা ফিল্ডার সাব্বির রহমানের তালুবন্দী হন স্ট্যানিকজাই। এরপর আবার আঘাত হানেন রাহী। মোহাম্মদ নবীকে এদিন ৩ রানের বেশি করতে দেননি তিনি। ১৫ তম ওভারের প্রথম বলে নবীকে আউট করেন রাহী। তবে শেষ দিকে একটু বেশি রান দিয়ে ফেলে বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৫ ওভারে ৪৪ রান তুলে নেয় আফগানরা। হারায় দুইটি উইকেট। সাকিব তুলে নেন নাজিবউল্লাহ জাদরানের (১৫) উইকেট। আর অপু ফেরান শফিউল্লাহকে (৪)। সামিউল্লাহ শেনওয়অরি ৩৩ রানে ও রশিদ খান ১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন অপু ও রাহী। এছাড়া সাকিব ও আরিফ একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: এক রানে জয়ী আফগানিস্তান।
আফগানিস্তান ইনিংস: ১৪৫/৬ (২০ ওভার)
(মোহাম্মদ শাহজাদ ২৬, উসমান ঘানি ১৯, আসঘার স্টানিকজাই ২৭, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ৩৩*, মোহাম্মদ নবী ৩, নাজিবউল্লাহ জাদরান ১৫, শফিকুল্লাহ ৪, রশীদ খান ১*; মেহেদী হাসান মিরাজ ০/২৭, নাজমুল ইসলাম অপু ২/১৮, সাকিব আল হাসান ১/১৬, আবু হায়দার রনি ০/৩১, সৌম্য সরকার ০/৮, আবু জায়েদ রাহি ২/২৭, আরিফুল হক ১/১৩)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৪৪/৬ (২০ ওভার)
(লিটন দাস ১২, তামিম ইকবাল ৫, সৌম্য সরকার ১৫, মুশফিকুর রহিম ৪৬, সাকিব আল হাসান ১০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৫, আরিফুল হক ৫*; মুজিব উর রহমান ১/২৫, আফতাব আলম ০/২৮, মোহাম্মদ নবী ০/২০, করিম জানাত ১/৪৪, রশীদ খান ১/২৪)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)

বিএএফ

2 responses to “তবু আফগানিস্তানের বাংলাওয়াশই!”

  1. Cialischeap says:

    Thank you for that enlightenment

  2. Paperhelp says:

    Thanks a lot for the article post.Much thanks again. Fantastic.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আরো খবর দেখুন