Saturday, June 2nd, 2018


বগুড়ায় বাঙ্গালী নদী ও ফসলী জমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় বাঙ্গালী নদী থেকে প্রায় ৪০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এরমধ্যে বাঙ্গালী নদীর উপর নির্মিত আরিয়ার ঘাট ব্রীজের নিচে থেকেই কয়েকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে হুমকির মধ্যে পরেছে পূর্ব সোনাতলাসহ পাশের জেলা গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ আড়িয়ার ঘাট ব্রিজটি। শুধু বাঙ্গালী এবং যমুনা নদীতে নয়, উপজেলার বিভিন্ন ফসলী জমিতে ভূ-গর্ভ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

জানা যায়, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার বাঙ্গালী নদীর উপর নির্মিত আড়িয়ার ঘাট ব্রিজটি চারটি উপজেলার যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। ঠিক তেমনি কৃষ প্রধান এলাকার মানুষগুলো তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যগুলো বাজারজাত করছে এই ব্রীজের উপর দিয়ে। বাঙালি নদীর উভয় পাশে বিভিন্ন সবজি, ধান, পাট ও কলার আবাদ হয়ে থাকে। প্রতিদিন স্থানীয় বাজারের বিরাট চাহিদা মেটাতে, লাউ, বিভিন্নজাতের শাক, পোটল, কচু শাক, কচু লতি, মরিচ, কলা ও ধান চালের আনা নেওয়া হয়ে থাকে।

ব্রিজটিকে ঘিরে গাইবান্ধার সাঘাটিয়া উপজেলা, বগুড়ার সদর, গাবতলী হয়ে সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছে। সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে মহাসড়কেও চাপ কমছে। ব্রীজটি প্রায় ৩ লাখ এলাকাবাসির জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। অথচ একটি অসাধু চক্র এই ব্রিজের নিচ থেকেই অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এই বালু উত্তেলন অব্যাহত রয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে বালু দস্যুরা আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। ব্রীজের নিচে পশ্চিম পাশ্বে ৩টি ও পূর্ব পাশ্বে ২টি মোট ৫টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ব্রীজের নিচ থেকেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক বালু উত্তেলন করছে বালু দস্যুরা। ট্রাকে করে এই বালু পরিবহন করা হচ্ছে বগুড়া জেলা সদর, সারিয়াকান্দি, সোনাতলাসহ বিভিন্ন এলাকায়। ব্রীজ এলাকা থেকে কিছু দূরে ৫ থেকে ৬টি স্থানে এবং উপজেলার রানীরপাড়া এলাকায় ২টি, নামাজখালী এলাকায় ২টি, সোনাকানিয়া এলাকায় ২টি, হাসরাজ এলাকায় ১টি, সর্জনপাড়া এলাকায় ১টিসহ প্রায় ৪০টি জায়গায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে শুষ্ক মৌসুমেও নদীর পার ভাঙ্গছে। নদীর পার ভাঙ্গার সাথে সাথে ভেঙ্গে বিলিন হয়ে যাচ্ছে নদীর সংলগ্ন আবাদী জমি। হুমকির মধ্যে রয়েছে বসত বাড়ি। ইদানিং বালু দস্যুরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলী জমির ভূগর্ভ থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। সোনাতলা উপজেলার চাড়ালকান্দী, কর্পুর, হাটকরমজা, মহিচড়ন, চিল্লিপাড়া, লক্ষিনারায়ন পাড়া, দিগদাইড়, কুশাহাটা, নুরপুর, বালুয়াহাট, মধ্য দিঘলকান্দী, হরিখালীসহ প্রায় ২০ টি পয়েন্টে শ্যালো মেশিন দিয়ে মাটির ভূ-গর্ভ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলন করায় ভূমি ধ্বসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনগণ।

বালু উত্তোলনের ফলে ওই এলাকাগুলো নিচু হয়ে একদিকে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে অপরদিকে হুমকির মুখে পরেছে বিভিন্ন সড়ক ও আবাদি জমিতে বালুর পরিমাণ বাড়ছে। বালু পরিবহনের ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাঁকা সড়ক। এছাড়া বর্ষাকালে পানি জমে থেকে চাষাবাদের ক্ষতি করছে। এক ট্রাক বালু বিক্রি হয়ে থাকে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়।

বগুড়ার সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্তৃত্ব রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন। তবে মাঝে মধ্যে বালু উত্তোলন রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুর আলম জানান, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে দ্রুত বালু উত্তেলন রোধে কাজ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আরো খবর দেখুন