Saturday, June 2nd, 2018


বৌলতলী এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের দাবী

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী বা এর আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের দাবী এখন এলাকাবাসীর প্রানের দাবী হয়ে উঠছে।ইতোমধ্যে জেলাবাসী গত ২৫ মে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম-এর কাছ থেকে জানতে পেরেছে প্রথম ধাপেই গোপালগঞ্জে গড়ে উঠতে যাচ্ছে দু’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।

ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য স্থান সনাক্ত করে প্রেরন করা হয়েছে। আর এ কারনেই উত্তর গোপালগঞ্জের উলপুর, দূর্গাপুর, করপাড়া, বৌলতলী, সাতপাড়, সাহাপুর, সিংগা, জলিরপাড়, হাতিয়াড়া, নিজড়া ইউনিয়নের মানুষ বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠছে। এই এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে এখান থেকে নানা ধরনের উপকার পেতে পারবে। বিশেষ করে কাজের সুযোগ বাড়বে এবং নতুন নতুন ‍শিল্প কলকারখানা হলে এলাকার উন্নয়নও তরান্বিত হবে এটা চিন্তা করে তারা তাদের এলাকায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন।

জানাগেছে, সদর উপজেলার বৌলতলী বাজারের উত্তরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের পাশে কুমার মধুমতির তীরে বৌলতলী বিলে রয়েছে প্রায় ৭’শ একর জমি। এখানকার জমির মালিকরা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরীতে তাদের জমি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আর এখান থেকে কোটালীপাড়া. কাশিয়ানী, রামদিয়া, গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর, টেকেরহাটসহ চতুর্দিকে যাতায়াতের জন্য অসংখ্য প্রসস্থ্য পাকা সড়ক। এখানেই কুমার মধুমতি নদীতে রয়েছে সাতপাড়, জলিরপাড়, বৌলতলী ও উলপুর ব্রীজ। যে কারনে এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করা হলে এখানে মানুষের যাতায়াত ও পন্য পরিবহনে কোন সমস্যা দেখা দেবেনা।

তাছাড়া এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী হলে গোপালগঞ্জের সবচেয়ে অনুন্নত এই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক ও যুব-মহিলা কর্ম-সংস্থানের সুযোগ পাবে। এ কারনেই উত্তর গোপালগঞ্জের প্রায় ১৫ টি ইউনিয়নের মানুষ সদর উপজেলার বৌলতলী বা আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরীর দাবী জানিয়েছে।

করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিকদার শাহ সুফিয়ান, বৌলতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুকান্ত বিশ্বাস, সাতপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুজিৎ মন্ডল বলেন, উত্তর গোপালগঞ্জের এই এলাকায় সম্প্রতি কেবলমাত্র  কয়েকটি রাস্তা ও কয়েকটি ব্রীজ নির্মান ছাড়া উন্নয়ন মূলক আর কিছুই হয়নি। যার সুবাদে এখানকার মনুষ শহরের মূখ দেখতে পায়।এসব কারনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উত্তর গোপালগঞ্জের বৌলতলীতে বা এর আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের দাবী জানিয়েছেন। যাতে এই এলাকার হাজার হাজার বেকার যুবক ও যুব-মহিলা কর্ম-সংস্থানের সুযোগ পায়।

উলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাবুল, দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিব আহম্মেদ বলেন, স্বাধীনতার পর ধেকেই উত্তর গোপালগঞ্জের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। জেলার অন্যান্য এলাকায় ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, চক্ষু হাসপাতাল, এ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস্, প্রাইমারী শিক্ষক প্রশিক্ষন কেন্দ্র, শেখ রেহানা টেক্সটাইল কলেজ, মৎস্য প্রশিক্ষন ইসষ্টিটিউট, পারমানবিক কেন্দ্র, সরকারী পলিটেকনিক কলেজ, মহিষ প্রজনন কেন্দ্রসহ অনেক উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়েছে। যার সুফল পাচ্ছে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির জনশক্তি ও কর্ম-সংস্থান সম্পাদক বাবুল আকতার বাবলা বলেন, সকল শ্রেনী পেশার মানুষ উত্তর গোপালগঞ্জের বৌলতলী বা এর আশপাশ এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে এসব এলাকায় উন্নয়ন ঘটবে। তাই সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেছেন, গোপালগঞ্জে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মানের জন্য ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের মাঝে গড়ে তোলা হবে এটি। গোপালগঞ্জে আরো কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরী করা হবে। কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গায়, সদর উপজেলার গোলাবাড়িয়ায় জায়গা দেখা হয়েছে। মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে, তবে এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সাতপাড়-রামদিয়া সড়কের পাশে সাতপাড় এলাকায় একটি জায়গা দেখেছেন। তবে উত্তর গোপালগঞ্জের সবাই যদি চায় যে, বৌলতলী এলাকায় বা আশপাশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মান করা হোক এবং এলাকার মানুষ তাদের জমি দিতেও রাজী হয় তাহলে আমরা সে বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আরো খবর দেখুন