Friday, June 1st, 2018


ভারতকে দেয়ার আপনি কে: প্রধানমন্ত্রীকে মওদুদ

‘আমি ভারতকে যা দিয়েছি তা তারা সারাজীবন মনে রাখবে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘ভারতকে দেয়ার আপনি কে?’

ভারত সফর শেষে বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন। আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ শুক্রবার তার জবাব দেন।

গত ২৫ ও ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের প্রথম দিন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এই বৈঠকে তিনি মোদির কাছে প্রতিদান চেয়েছেন বলে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক।

প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন, চাওয়ার অভ্যাস তার নেই। বলেন, তিনি ভারতকে যা দিয়েছেন, তা তারা কখনও ভুলতে পারবে না।

ভারতকে কী দিয়েছেন সেটাও জানান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি গুড়িয়ে দেয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের বোমাবাজি, গুলি, আমরা শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই আমরা কোনো প্রতিদান চাই না।’

মওদুদের মতে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জাজনক’। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই কথাটি বললেন? বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ। সেই দেশের আপনি অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছেন ভারতকে।’

‘কী দিয়েছেন আমরা সবই জানি। আপনি তাদের অকাতরে যত রকম সুবিধা আছে সবই দিয়েছেন সেটা আজকে আপনি স্বীকারও করেছেন।’

‘ট্রানজিট দিয়েছেন উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলোর জন্য। তাদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আমাদের বন্দর ব্যবহার করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সবই দিয়েছেন।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ উদ্ধার করার বদলে প্রধানমন্ত্রী একা একাই বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন ও স্বার্বভৌম দেশের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার অধিকার রাখেন না।’

‘আপনি কে?’- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রীকে মওদুদ বলেন, ‘আপনি তো একা সেটা করতে পারেন না। আজকে আপনি এ কথা বলে ১৬ কোটি মানুষের মনে আঘাত দিয়েছেন। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে এই আঘাতের প্রতিদান আপনাকে দিতে হবে।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি অনলাইন পত্রিকার আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় অতিথি হয়ে যোগ দেন মওদুদ।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরেও তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির কোনও সুরাহা না হওয়ায় নাখোশ মওদুদ। বলেন, ‘এবারও তিস্তার সুরাহা ছাড়া ব্যর্থ সফর করে আসলেন। আর এই ব্যর্থ সফরকে সফল করার জন্য আজ বলছেন যে, ভারতকে আমরা অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের জাতীয় স্বার্থ কোনো কিছুই আপনি উদ্ধার করতে পারেন নাই।’

মাদক নিয়ন্ত্রণে এতদিন ধরেননি কেন?

মাদক নিয়ন্ত্রণের সাঁড়াশি অভিযানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযান পাওয়া যাবে, তাদের কেউ পার পাবেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি যখন ধরি, তখন ভালোভাবেই ধরি।’

জবাবে মওদুদ বলেন, ‘তাহলে গত নয় বছর যে ক্ষমতার রইলেন, এতোদিন ধরেন নাই কেন?’

‘দেশের মানুষ জানতে চায়, এই মাদক ব্যবসা কি নতুন কিছু? মাদক ব্যবসায়ীরা যেভাবে অর্থ উপার্জন করেছে, আপনি আর আপনার সরকার এতদিন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কেন?’

‘ওনারাই বলেছেন, ৭৭ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তারা চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু একজনকেও ধরতে পারেন নাই এখনও।’

অভিযানে ‘আসল’ মাদক কারবারি কাউকে ধরা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।

দেশের কোটি কোটি যুবকরা যারা গত নয় বছরে যে মাদকাসক্ত হয়েছে তার দায় সরকারের উল্লেখ করে একদিন তার বিচার হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন মওদুদ।

খালেদার মুক্তির চেষ্টায় পেরে ওঠছি না

দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হওয়া দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করেও পেরে না ওঠার কথাও বলেন মওদুদ। বলেন, ‘কারণ, নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে।’

সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম জিয়ার জামিন হবে এটার কোনো অবকাশ নাই। নানাভাবে তারা (সরকার) কৌশল করে এটাকে বিলম্বিত করছে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। বিএনপি নেতারা বৃহস্পতিবার রায়ের দিন আশা করছিলেন ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবারই তাদের নেত্রী জামিনে বের হয়ে আসবেন। কিন্তু প্রায় চার মাস ধরেই ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলেও কুমিল্লায় নাশকতার তিন মামলা, ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন, চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশকে অপমান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আরও ছয়টি মামলায় ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। এতদিন এসব পরোয়ানাকে পাত্তা না দিলেও এগুলোই এখন খালেদার মুক্তিতে বাঁধা হয়ে দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আরো খবর দেখুন