Saturday, June 2nd, 2018


মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত আরো ৩

সারা দেশে মাদক নির্মূল অভিযানে দুই জেলায় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরো তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী এবং গাজীপুর শহরে নিহত ওই তিনজনই ‘চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারী’ বলে র‌্যাব ও পুলিশের ভাষ্য।

মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

রাজশাহী : রাজশাহীতে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নগরের কর্ণহার থানার করমজা এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। হত দুজনের নাম বেলাল ও নাজমুল। তাদের বাড়ি পবা উপজেলায়। নিহত দুজনের মধ্যে বেলাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

রাজশাহী র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আশরাফুল ইসলাম জানান, করমজা এলাকায় তাদের সঙ্গে একদল মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিনিময় হয়। এতে দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব-৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর এ এম আশরাফুল ইসলাম আরো জানান, মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন।

রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসে র‍্যাব। নিহত দুজনের বুকে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। লাশ কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

গাজীপুর : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভাদুন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহত কামাল খান ওরফে কামরুল ইসলাম ওরফে কামু টঙ্গীর এরশাদ নগর বস্তির মৃত সিরাজ খান ওরফে তমিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের কালীগঞ্জের রায়েরদিয়া এলাকা থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি নম্বরবিহীন প্রাইভেটকারসহ কামুকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই তার রিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। রাত আড়াইটার দিকে কালীগঞ্জ থেহে গাজীপুর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসার পথে ভাদুন এলাকায় কামুর সহযোগিরা তাকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে হামলা করে গুলি ছুঁড়তে থাকে । এ সময় ডিবি পুলিশ আাত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে কামু পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালাতে গেলে তার সহযোগীদের গুলিতে আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডি কেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ড্যারিক স্টিফেন কুইয়্যা জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডিবি পুলিশের এএসআই কাদেরসহ ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদেরকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, কামরুল ইসলাম কামু এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী ও নারায়নগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা ও মাদকসহ ১৪টি মামলা রয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর এ নিয়ে গত ১৩ দিনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, মাদক কারবারিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে গুলি করায় পাল্টা গুলি করছে পুলিশ বা র‌্যাব। কথিত ওই বন্দুকযুদ্ধের মধ্যেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে মাদক চোরাকারবারিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে।

তবে তাদের ওই বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সমালোচনার মধ্যেও মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আরো খবর দেখুন